গাইবান্ধায় ধর্ষণের ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ! ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা

মাসুম লুমেনমাসুম লুমেন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:২৩ PM, ১৮ জুন ২০২০

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ব্লাকমেইল করে জোর পূর্বক ধর্ষণ করার কারনে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের শালমারা (পাছপাড়া) গ্রামে এই ঘৃণিত অপরাধের ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার পর থেকেই অসহায় এই  পরিবারটি গ্রামের জনপ্রতিনিধিদের  দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ায় অবশেষে গতকাল (১৭ জুন) ছাত্রীর ফুফাতো ভাই সাইফুল বাদি হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের শালমারা (পাছপাড়া) গ্রামের হতদরিদ্র লাল মিয়ার কন্যা শালমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী প্রতি দিনের মতো  বাড়ী থেকে বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করতো। এতে একই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মহিমাগঞ্জ  শাখার যুগ্ন আহবায়ক আহসান হাবীব আকুলের (২৫) কুনজরে পড়ে ওই স্কুল ছাত্রী।

বিভিন্ন সময় রাস্তায় তাকে উত্তক্ত সহ কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল লম্পট  আকুল। ভুক্তভোগী ছাত্রী লম্পট আকুলের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রায় ৪ মাস পূর্বে স্কুলে যাওয়ার পথে আকুল মিয়ার মাছের হ্যাচারীর নিকট পৌঁছলে আকুল মিয়া তার দুই সহযোগী একই গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে রুবেল (২৪) ও নাবুল মিয়ার ছেলে নাদেন (১৮) এর সহযোগিতায় রাস্তা থেকে টানাহেঁচড়া করে হ্যাচারীর ঘরে নিয়ে যায় এবং সেখানে আকুল জোর পূর্বক ধর্ষন করে এবং মোবাইলে সেই নগ্ন ছবির ভিডিও ধারন করে।

এরপর থেকে পুনরায় আকুল যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। এতে রাজি না হলে তার ধারণকৃত নগ্ন ভিডিও ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম  ফেইসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয় লম্পট আকুল।

এরপর ভিডিও ধারণ করার এক সপ্তাহ পর গত মার্চ মাসের ১ তারিখে সকাল ৯ টার দিকে স্কুলে যাওয়ার পথে কৌশলে ধারণকৃত ভিডিও ডিলেট করার কথা বলে ওই হ্যাচারীর মধ্যে ডেকে নিয়ে যায়। এসময় আবারো তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আকুল। এরপর ধারণ করা ওই ভিডিওকে কাজে লাগিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে আকুল। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনার আদ্যোপান্ত খুলে বলেন পরিবারের কাছে।

ওই ছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকর্মী কোহিনুর বেগম।

অন্তঃসত্ত্বা ওই ছাত্রীর বড় বোন জানান, “সংসারে অভাব অনাটনের কারণে আমার আব্বা লাল মিয়া ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করেন। তার বোনের এই সর্বনাশ করার বিচার চেয়ে গ্রামের জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুড়েছি। কিন্তু আকুল মিয়ার পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ এ ঘটনার বিচার করার সাহস পাননি। এদিকে এ  ঘটনাকে কেন্দ্র করে আকুলের পরিবার থেকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে আমার বোনের এ ঘটনার বিচার চেয়ে ফুফাতো ভাই সাইফুল ইসলামকে বাদী করে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে”।

এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, গতকাল এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। এরই প্রেক্ষিতে এসআই আলা উদ্দিন ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) থানায় ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে এ ঘটনা তদন্তে পিবিআইকে মামলা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান।

আপনার মতামত লিখুন :