গাইবান্ধায় ভুয়া শিল্পমন্ত্রীর পর এবার ভুয়া ডিআইজি আটক!

মাসুম লুমেনমাসুম লুমেন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:৫২ AM, ২৩ জুন ২০২০

গাইবান্ধায় গত রবিবার (২১ জুন) সুন্দরগঞ্জ উপজেলা থেকে দীর্ঘদিন থেকে নিজেকে শিল্পমন্ত্রীর পরিচয় দিয়ে ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারকে ফোন করে বদলি বানিজ্যসহ বিভিন্ন ধরনের  প্রতারণার অভিযোগে নাসির উদ্দিন (২৮) নামে এক ভুয়া শিল্পমন্ত্রীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ নিয়ে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার তাতক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলন করে ভুয়া শিল্পমন্ত্রী নাসির উদ্দীন সমন্ধে সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ঠিক এর একদিন পরেই গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের জালে ধরা পরলো মাসুদ সরকার নামে আর এক ভুয়া ডিআইজি! তিনি কখোনও ডিআইজি, কখনো সেনা কর্মকর্তা, কখনো আবার নারী নেত্রী পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন। গতকাল (২২ জুন) গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের পশ্চিম চৌরাস্তা এলাকা থেকে ভুয়া ডিআইজি মাসুদকে আটক করে।
              

ভুয়া ডিআইজি মাসুদ সরকার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চকরহিমাপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মজিদ সরকারের ছেলে।

গোবিন্দগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে,
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন  ছদ্দদেশ ধারণ এই চিটার ভুয়া ডিআইজি মাসুদ সরকার গত ১৪ জুন তারিখ রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে মধ্যপাড়া গ্রামে তার পাশের বাড়ির প্রবাসী জাকিরের কন্ঠ নকল করে জাকিরের মামীকে ফোনে নিজেকে জাকির পরিচয়ে বলেন “মামী আমি জাকির, সৌদি পুলিশের কাছে ধরা পরেছি, মাকে ফোন দেন। ১০ মিনিটের মধ্যে ৩০ হাজার টাকা বিকাশে না দিলে আমাকে জেলে ঢুকাবে এবং পুলিশ আমাকে মারপিট করছে। ফোন পেয়ে জাকিরের পরিবার জাকিরকে বাঁচানোর জন্য তার দেয়া বিকাশ নাম্বারে দুই বারে মোট ২৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পর পুণরায় জাকির ফোন করে কান্নাকাটি করে আরও ১৫ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। এরপরেও সন্তানের জীবনের কথা চিন্তা করে জাকিরের পরিবার টাকা সংগ্রহ করে ঐ নাম্বারে ফোন দিলে তারা ঐ  ফোন নাম্বারটি বন্ধ পান। এতে জাকিরের পরিবারের সন্দেহ হয়। পরে জাকিরের বাবা থানায় এসে অভিযোগ দিলে থানা পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিশ্চিত হয়, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপধারী চিটার মাসুদই তার বেনামি ফোন সিম ব্যবহার করে ২৫ হাজার টাকা প্রতারণা করেছে।

এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় তার সহযোগী একই গ্রামের তুহিন সহ কতিপয় সিম বিক্রয়কারীর সহায়তায় বেনামে সিম ক্রয় করে মাসুদ। এছাড়া তিনি অনেকের নম্বর ক্লোন করে কখনো নারী কন্ঠ নকল করে আবার কখনো পুরুষ কন্ঠে ডিআইজি সেজে প্রতারণা করে আসছিলেন।

তিনি আরও বলেন, গত ১৯ জুন এই প্রতারক মাসুদ নিজেকে পুলিশ হেডকোয়ার্টাস এর ডিআইজি মাসুদ পরিচয় দিয়ে তার নিজের মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে থানার এক অফিসারের কাছে তদবির করেন। এর আগে মাসুদ নিজের বৌ এর কন্ঠ নকল করে জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে ফোন করে মিথ্যা অভিযোগ করেছিল। এই প্রতারক এ রকম অজস্র ঘটনার নায়ক। তার বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া এই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে মাদক সহ আরো ৬টি মামলা বিচারাধীন আছে।
              

আপনার মতামত লিখুন :