গ্রামবাসীর কঠোরতায় গাছের মগডালে কোয়ারেন্টাইনে ৭ যুবক!

মাসুম লুমেনমাসুম লুমেন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:৩২ AM, ৩১ মার্চ ২০২০

করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক অবাক কাণ্ড ঘটে চলেছে এই দুনিয়ায়। নওগাঁতে ইতালি থেকে স্বামী আসার খবর শুনে স্ত্রীর বাড়ি থেকে পলায়ন, বিভিন্ন জায়গায়  জ্বর-সর্দি’র রোগী দেখে হাসপাতাল থেকে রোগীর দৌড়, গাইবান্ধায় এক নতুন লোকের সাথে চা খেতে এক ব্যক্তি পরিচয় বিদেশ ফেরত জেনে চায়ের কাপ ফেলে ভো দৌড়! এ রকম নানাবিদ ঘটনা ঘটছে। কিন্তু ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা একদিকে হাস্যরসের সৃষ্টি করলেও অন্যদিকে অত্যন্ত পরিতাপের ও মানবিক বিষয় এটি।

এক সপ্তাহ পূর্বে সাত যুবক চেন্নাই থেকে পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভাঙ্গিডিহি নিজ গ্রামে আসেন। গ্রামের লোকজন করোনা আতঙ্কের কারণে তাদেরকে প্রথমে গ্রামেই ঢুকতে দিতে চাননি, এসময় গ্রামের কিছু মানুষ পরামর্শ দিলেন, আগামী ১৪ দিন গ্রামের বাইরে গাছে ওঠে থাকবেন ওই সাত যুবক!

মাচা বেঁধে দেওয়া হলো বড় আমগাছের সঙ্গে। দেওয়া হলো মশারি এবং স্টোভ। যাতে ওরা চাইলে চা বানিয়ে খেতে পারে। শালপাতায় দিনের আর রাতের খাবার গ্রামের লোকেরা পৌঁছে দিতেন ওই যুবকদের।
এই অঞ্চলে হাতির খুব উৎপাত। তাই গাছে মাচা পেতে থাকে অনেকেই।

গ্রামের এক পঞ্চায়েত সদস্য বলেন, করোনার ভয়ে কেউ ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেনা। তাই পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই যুবকরা গাছের মগডালে’র উপর বাধ্য হয়েই  থাকছিলেন।

যদিও ১৪ দিন গাছে কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা ছিল, কিন্তু আজ ওই যুবকদের নেমে আসতে হয়েছে।জেলা প্রশাসনের কাছে এই অমানবিক জুলুমের খবর পৌঁছে যাওয়া মাত্রই  যুবকদের নামিয়ে আনা হয়েছে।  তাদেরকে স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি সেন্টারে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টিন করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি  পুরুলিয়ার জেলাশাসক রাহুল মজুমদার নিশ্চিত করেছেন।

গাছ থেকে নামার পরে ওই যুবকরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, গাছে থাকার অভ্যাস ছোটবেলা থেকেই। তাই বেশি অসুবিধা হয়নি। তবে ছয় মাস পরে গ্রামে ফিরে নিজের আপনজনের সঙ্গে দেখা না করে গাছে থাকতে হচ্ছিল বলে একটু মন খারাপ লাগছিল।

সূত্রঃ অনলাইন/ মাআমা

আপনার মতামত লিখুন :