ফুলবাড়ীতে গাছে গাছে মুকুলের সমারোহ

গাইবান্ধা টাইমসগাইবান্ধা টাইমস
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:২৫ PM, ০৮ মার্চ ২০২০

আয় ছেলেরা, আয় মেয়েরা ফুল তুলিতে যাই, ফুলের মালা গলায় দিয়ে মামার বাড়ি যাই। ঝড়ের দিনে মামার দেশে আম কুড়াতে সুখ, পাকা আমের মধুর রসে রঙিন করি মুখ।’ পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের কবিতার কথাগুলো বাস্তবে রূপ পেতে বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। এ মুহূর্তে গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। সেই মধু বাতাসে মিশে যেমন সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ, তেমনই মানুষের মনকে বিমোহিত করে মধুমাসের আগমনী বার্তাও শোনাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছেন, এবার স্বাভাবিক সময়ে মুকুল এলেও পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আম বাগানগুলো এখন মুকুলে ভরে গেছে। আর চাষিদের আগ্রহের কারণে এ উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে আমের বাণিজ্যিক চাষ।

উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে দেখা যায়, আম বাগানের সারি সারি গাছে শোভা পাচ্ছে কেবলই মুকুল। এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। মুকুলে ছেঁয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা।

তবে বাগান মালিকরা বলছেন, আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। এদিকে মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছগুলো। তবে বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল চোখে পড়ছে। আম গাছে মুকুলের সমারোহ দেখে বাগান মালিকদের চোখে ভাসছে রঙিন স্বপ্ন। এ এলাকায় অম্রপালি, হাড়িভাংঙ্গা, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, ক্ষিরসাপাতি আমের বাগান বেশি। ইতোমধ্যে এসব গাছ মুকুলে ছেঁয়ে গেছে।

উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের বাগান মালিক হামিদুল হক জানান, বাগানের গাছগুলো মুকুলে ছেঁয়ে গেছে। মুকুল আসার পর থেকেই গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু হয়েছে। রোগ বালাইয়ের আক্রমন থেকে মুকুল রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন তিনি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের লোকজনও সার্বক্ষনিক খোঁজ রাখছেন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাগান মালিকরা জানান, বর্তমানে আবহাওয়া অনুকুলে রয়েছে তাই ফলন ভাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এমনটিই আশা প্রকাশ করেন তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এটিএম হামিম আশরাফ জানান, এবার ফুলবাড়ী উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক আম বাগান চাষ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চাষীদের আগ্রহী করে তুলতে বিভিন্ন পর্যায়ে বাগানের যত্ন ও ফল বাজারজাতকরণের বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :